প্রকৃতির প্রতি মমত্ববোধের উৎকৃষ্ট উদাহরণ

Posted by

·

ভোলা বিজ্ঞান ক্লাব ডেস্ক

সেই তিনজনকে ধন্যবাদ, যাঁদের প্রতিবাদে আজও টিকে আছে কালের সাক্ষী এই গাছ।

এই গাছে আমারও ভাগ আছে, আমি আমার গাছ বিক্রি করব না।’
স্কুলশিক্ষক আবদুল লতিফ, গ্রামের কৃষক আলী আফজাল খাঁ আর মুরব্বি মফিজ উদ্দিনের এই এক কথায় থেমে গিয়েছিল প্রায় পাঁচশ বছর পুরোনো বটগাছ কাটার তোড়জোড়। সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে এত বছরের একটা ঐতিহ্যকে বিক্রি হতে দেননি এই তিনজন প্রবীণ।

গাছটি রয়েছে রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলার ময়েনপুর মহল্লার ঈদগাহ মাঠে। সঠিক বয়স কেউ বলতে পারে না, তবে প্রায় পাঁচশ বছরের কাছাকাছি তো হবেই! এক বিঘার মতো জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে আছে গাছটি। ২০০৫ সালে কিছু মানুষের মনে হয়, এই গাছ কেটে ঈদগাহ প্রশস্ত করা হোক। সঙ্গে হয়তো ছিল কিছু অর্থের যোগ! কিন্তু বন কর্মকর্তা গাছের মূল্য নির্ধারণ করতে চাইলে রুখে দাঁড়ান সেই তিনজন। তাঁদের সঙ্গে দাঁড়ায় আরও প্রকৃতিপ্রেমী এলাকাবাসী। সুযোগসন্ধানীরা পিছু হটে যায়, আর কালক্রমে এখন এই গাছেই পরিচিত ময়েনপুর। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসে এই গাছ দেখতে।

একটা শত শত বছর বয়সী গাছ শুধুমাত্র গাছ নয়, তাকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকে আরও অনেক প্রাণী। গাছের ডালে বাসা বাঁধে হরেক রকম পাখি, গর্তে জায়গা খুঁজে নেয় সরীসৃপেরা। এ ডাল থেকে ও ডালে লাফিয়ে বেড়ায় কাঠবিড়ালি। এমনকি গাছের গায়ে নতুন প্রাণ নিয়ে আসে স্বর্ণলতা, গুঁড়িতে জমে থাকা শ্যাওলা। এরকম একটি গাছ থেকে অন্নসংস্থান হয় হাজার হাজার প্রাণী ও পাখির। অক্সিজেন পায় প্রায় পুরো এলাকার মানুষ। একটা গাছই যেন গোটা একটা ইকোসিস্টেম!

ছবি: সংগৃহীত
Bhola Science Club Desk

About the author

Discover more from Bhola Science Club

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading