
দিনটা ২৪ আগস্ট, ২০০৬। সৌরজগতের নবম গ্রহ হিসেবে স্বিকৃত প্লুটোকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কমিটি – আইএইউ, গ্রহের তালিকা থেকে বাদ দেয়।
প্লুটো আবিষ্কার হয় ১৯৩০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের লোয়েল অবজারভেটরিতে। প্লুটো অর্থ দুরবর্তী।

লোয়েল অবজারভেটরির প্রতিষ্ঠাতা পারসিভাল লোয়েল এর নামের সাথে মিল থাকায় এবং অর্থগত সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে সে বছরের ২৪ মে প্লুটো নামের বস্তুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সৌরজগতের নবম গ্রহ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
১৯৩০ থেকে ২০০৬, দীর্ঘ ৭৬ বছর বিশ্বব্যাপি গ্রহ হিসেবে পরিচিত প্লুটোর সংকট শুরু হয় ২০০৩ সালে। সে বছর “এরিস” নামের একটি বস্তু কুইপার বেল্ট নামক বস্তুগুচ্ছেই আবিষ্কার হয়, যেখানে প্লুটোও অবস্থিত।
এরিস প্লুটোর মতোই সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে এবং ভরে প্লুটোর চেয়ে কিছুটা বেশি। এরপর কাছাকাছি সময়ে একই বৈশিষ্ট্যের আরো কিছু বস্তু আবিষ্কৃত হয়। এদের আবিষ্কার প্লুটোর গ্রহ হওয়ার যোগ্যতাকে চ্যালেন্জ করে।
যদি সবগুলোকে গ্রহের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তাহলে গ্রহের তালিকা ৯ থেকে বেড়ে শতকের ঘরে গিয়ে ঠেকে। আবার এদের গ্রহের তালিকাভুক্ত করলে গ্রহের সঙ্গা অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। ফলে, আইএইউ গ্রহের সঙ্গা পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেয়।
নতুন সঙ্গা অনুযায়ী, কোনো বস্তু গ্রহ হিসেবে স্বীকৃত হবে যদি ১. সূর্যকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করে, ২. যথেষ্ট ভর থাকার কারনে গোলাকার ধারন করে, ৩. নিজস্ব কক্ষপথকে অন্য যেকোনো মহাজাগতিক বস্তু থেকে মুক্ত রাখে। প্লুটো এবং অন্যান্য নতুন গ্রহের দাবিদারগণ তৃতীয় যোগ্যতায় আটকে যায়। একারণে প্লুটোকে গ্রহের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে অন্যান্য বস্তুগুলোর সাথে “বামনগ্রহ” নামের বিশেষ শ্রেণীভুক্ত করা হয়।
এ ঘটনা একটি বিশাল অর্থ বহন করে। আজকে যা শতভাগ সত্য বলে প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত, সময়ের পরিবর্তন ও প্রকৃত সত্যের আগমন, এ সত্য কে মিথ্যা করে দিতে পারে। কারন, মহাবিশ্বে চিরন্তন সত্য বলে কিছু নেই, সবই আপেক্ষিক।
লেখক: মো: ওয়াসিম কামাল
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি

Leave a Reply