বিজ্ঞান

·

By

·

3–4 minutes

to read

ভূমিকা: বিজ্ঞান আধুনিক সভ্যতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। মানুষের জ্ঞান, গবেষণা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রকৃতির রহস্য উদঘাটনের নামই বিজ্ঞান। বর্তমান যুগকে বিজ্ঞান যুগ বলা হয়। মানুষের জীবন সুন্দর, সহজ ও উন্নত করতে বিজ্ঞানের অবদান ও পরিসীমা। শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, শিল্প, যোগাযোগ, পরিবহন প্রতিটি ক্ষেত্রে বিজ্ঞান যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। তাই বিজ্ঞান ছাড়া আধুনিক জীবন কল্পনা করা যায় না। বিজ্ঞানের কল্যাণে পৃথিবী আজ অনেক ছোট হয়ে এসেছে। এক সময় যে কাজ করতে দিনের পর দিন সময় লাগতো, এখন তা কয়েক মুহূর্তে করা সম্ভব হচ্ছে। মানুষের জীবন যাত্রা হয়েছে সহজ, আরামদায়ক ও গতিশীল। নতুন নতুন আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিজ্ঞান প্রতিনিয়ত মানব সভ্যতাকে সমৃদ্ধ করছে। তবে বিজ্ঞানের যেমন অসংখ্য আশীর্বাদ রয়েছে। তেমনি এর অপর ব্যবহার মানবজাতির জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় দেখে আনতে পারে। তাই বিজ্ঞান সঠিক ও কল্যাণমুখী ব্যবহার করা উচিত।


বিজ্ঞান এর ধারনা: বিজ্ঞান শব্দের অর্থ বিশেষ জ্ঞান। পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যুক্তির মাধ্যমে অর্জিত নির্ভুল জ্ঞানী বিজ্ঞান। বিজ্ঞান মানুষের কুসংস্কার দূর করে সত্য বাস্তবতার পথে চলতে শেখায়। নতুন নতুন আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিজ্ঞান প্রতিনিয়ত মানব জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে। বিজ্ঞান প্রকৃতির বিভিন্ন ঘটনা ও নিয়মের কারণ অনুসন্ধান করে এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করে । মানুষের কৌতুহল ও জানার আগ্রহ থেকে বিজ্ঞানের জন্ম। নতুন নতুন আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিজ্ঞান প্রতিনিয়ত মানুষকে কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস থেকে মুক্ত করে যুক্তিবাদী ও বাস্তবমুখী চিন্তা ভাবনা ঘরে তুলতে সাহায্য করে। তাই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে বিজ্ঞানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞানের প্রভাব: মানুষের ঘুম থেকে উঠা শুরু করে রাতের ঘুমানো পর্যন্ত প্রায় সব কাজেই বিজ্ঞানের ছোঁয়া রয়েছে। বিদ্যুৎ, মোবাইল ফোন , কম্পিউটার, ইন্টারনেট, টেলিভিশন, ফ্রিজ, পাখা, এসি, রান্নার গ্যাস সবই বিজ্ঞানের প্রভাব । অনলাইন শিক্ষা, ব্যাংকিং , কেনাকাটা ও যোগাযোগ আজ বিজ্ঞানের কারনে অত্যন্ত সহজ হয়েছে। কয়েক সেকেন্ড পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে খবর পৌঁছে যাচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিজ্ঞান এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। বর্তমানে মোবাইল ফোন, ই-মেইল, ভিডিও কল এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম সাহায্য মূহুর্তের মধ্যেই বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যোগাযোগ কর যায়। শিক্ষাক্ষেত্রে বিজ্ঞান নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।


চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অবদান: চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে মানুষের গর আয়ু বেড়েছে । এক সময় যে রোগে মানুষ মারা যেত , আজ অনেকগুলোই চিকিৎসা করা সম্ভব। এক্স- রে , এমাআরআই , সিটি স্ক্যান , আল্ট্রাসনোগ্ৰাফি, টিকা, অ্যান্টিবায়োটিক, আধুনিক অস্ত্র প্রচার এবং অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মতো প্রযুক্তি মানুষের জীবন রক্ষা করেছে । নতুন ওষুধ আবিষ্কার এবং উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থার ফলে মৃত্যু হার কমছে ।

কৃষি ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অবদান : বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। কৃষিতে বিজ্ঞান ব্যবহারের ফলে খাদ্য উৎপাদন অনেক ভারতে। উন্নতমানের বীজ, রাসায়নিক ও জৈব সার , সেচব্যবস্থা, কৃষিযন্ত্র এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের প্রযুক্তি কৃষকদের কাজ সহজ করছে। ফলে কম সময়ে বেশি ফসল উৎপাদন হচ্ছে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে। কৃষি কাজে বিজ্ঞান এর ভূমিকা অপরিসীম।

শিক্ষা ও যোগাযোগে বিজ্ঞানের ভূমিকা: বিজ্ঞানের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থা আধুনিক হচ্ছে। কম্পিউটার, প্রজেক্টর , ইন্টারনেট, অনলাইন ক্লাস ও ডিজিটাল লাইব্রেরির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সহজেই জ্ঞান অর্জন করতে পারবে । যোগাযোগ ব্যবস্থাও এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। মোবাইল ফোন, ই-মেইল, ভিডিও কল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মানুষের দুরুত্ব কমিয়ে দিয়েছে। বিমান দ্রুত গতির ট্রেন ও আধুনিক যানবাহনের কারনে যাতায়াত এখন অনেক সহজ ।

শিল্প ও অর্থনীতিতে বিজ্ঞানের অবদান: কারখানায় আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার উৎপাদন বৃদ্ধি করছে। তথ্য প্রযুক্তি,রোবোট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং সয়ংক্রিয় যন্ত্র শিল্পকে আরো উন্নতি করেছে। এর ফলে কর্ম দক্ষতা বরেছে এবং দেশের অর্থনীতি উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে। বিজ্ঞান নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ ও সৃষ্টি করেছে।

মহাকাশ গবেষণায় বিজ্ঞান: বিজ্ঞান মানুষের দৃষ্টি পৃথিবীর বাইরে আকাশ পর্যন্ত বিস্তৃত করে । কৃত্রিম উপগ্রহ , উৎক্ষেপণ , চাঁদ ও মঙ্গলগ্ৰহের অভিযান , মহাকাশ গবেষণা মানুষের জ্ঞান কে সমৃদ্ধ করেছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস , দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা , টেলি যোগাযোগ এবং জিপিএস সেবায় উপগ্রহ ভূমিকা পালন করে। এখন বিজ্ঞানের মাধ্যমে চাঁদেও দাওয়া যায়। আকাশের ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর কাজ করে দিতে পারে ।

উপসংহার: বিজ্ঞান আধুনিক সভ্যতার অন্যতম ভিত্তি। মানুষের জীবন সুন্দর, সহজ ও সমৃদ্ধ করতে বিজ্ঞানের অবদান সবসে বেশি। তবে বিজ্ঞানের প্রকৃত সাফল্য তখনই অর্জিত হবে , যখন তা মানবকল্যাণে ব্যবহৃত হবে । তাই আমাদের উচিত বিজ্ঞান কে সঠিক ভাবে কাজে লাগিয়ে একটি উন্নত ও সহজ শান্তি পূর্ণ সমাজ গঠন করে। বিজ্ঞানি পারে দেশ ও জাতিকে উন্নতির শিখরে পৌছে দিতে মানব সভ্যতাকে আর উজ্জ্বলের দিকে এগিয়ে নিয়ে ।

লেখক: বিবি মরিয়ম, ৮ম শ্রেনী, ওবায়দুল হক বাবুল মোল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভোলা সদর, ভোলা।

Leave a Reply

Keep Reading

Discover more from Bhola Science Club

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading